প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন দল গঠন এবং অনলাইন প্রোপাগান্ডা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সদ্য পদত্যাগ করা নারী নেত্রী তাসনূভা জাবীন। রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিকে তীক্ষ্ণ ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
তাসনূভা জাবীন তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন মেনে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। তিনি সালমান মুক্তাদির এবং মানজুর আল মতিনের পরিবারের ওপর হওয়া আক্রমণের উদাহরণ টেনে বলেন, যারা ভিন্নমত পোষণ করছে, তাদেরকেই সুশৃঙ্খলভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।
তাঁর সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যটি ছিল— “যে রাজনীতি বানান করতে পারে না, সেও পরামর্শ দিচ্ছে নতুন রাজনীতির দোকান না খুলতে।” তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো নতুন কোনো শক্তিকে জায়গা দিতে চায় না এবং নারীদের তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি এখনও বিদ্যমান।
বাঙালি নারীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের লড়াইয়ের শেকড় অনেক গভীরে। ১৯০০-এর দশকে বেগম রোকেয়ার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ রচনার মাধ্যমে যে নারী জাগরণের শুরু হয়েছিল, তা ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পূর্ণতা পায়। ১৯০০ সালের শুরুতে নারীদের রাজনীতিতে আসা যেখানে ছিল প্রায় অসম্ভব, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে নারীদের সংরক্ষিত আসন এবং ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের বড় অর্জন।
তবে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ‘সিস্টেমেটিক অনলাইন বুলিং’। তাসনূভা জাবীন তাঁর পোস্টে হাসিনাশাসিত আমলের ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ ও ‘গুম’ সংস্কৃতির সাথে বর্তমানের তুলনা করে বলেছেন, মানুষ এখন আর গুম বা মামলার ভয়ে চুপ থাকবে না।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটছে। তাসনূভা জাবীন তাঁর পোস্টে রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, রাজাকার ট্যাগ দিয়ে যেমন অতীতে মানুষকে দমিয়ে রাখা যায়নি, তেমনি বর্তমানের ‘অনলাইন মিথ্যাচার’ দিয়েও সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। তাঁর মতে, এটি একটি নোংরা সংস্কৃতির ‘শেষের শুরু’।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাসনূভা জাবীনের এই অবস্থান ২০২৬ সালের নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং তরুণ ও নারী নেতৃত্বের একটি স্বতন্ত্র অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
১৯০০ সাল থেকে ২০২৬—বিবর্তন অনেক হয়েছে, কিন্তু নারীর রাজনৈতিক অধিকার এবং ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা আজও প্রশ্নবিদ্ধ। তাসনূভা জাবীনের পদত্যাগ এবং তাঁর এই ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের রাজনীতি এখন কেবল মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন ডিজিটাল স্পেস এবং আদর্শিক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।
সূত্র: ১. যুগান্তর অনলাইন ডেস্ক (১১ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. তাসনূভা জাবীন অফিসিয়াল ফেসবুক প্রোফাইল। ৩. বাংলাদেশ পলিটিক্যাল হিস্টোরি আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬) ও ইউএন ওম্যান রিপোর্ট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |